সৃষ্টিজগতের অণু-পরমাণু সম্পর্কেও আল্লাহ তাআলা অবগত

সৃষ্টিজগতের অণু-পরমাণু সম্পর্কেও আল্লাহ তাআলা অবগত


৮. প্রত্যেক নারী গর্ভে যা ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে, আল্লাহ সব কিছু জানেন। তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটি পরিমাণ আছে। [সুরা : রাদ, আয়াত : ৮ (তৃতীয় পর্ব)]
তাফসির : আলোচ্য আয়াতে মহান আল্লাহর সীমাহীন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ জগতের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব কিছু সম্পর্কেই অবহিত। আল্লামা ইবনে আশুর (রহ.) লিখেছেন, এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে সবিস্তারে জ্ঞান রাখেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই, সংশয় নেই। এই আয়াতে অমুসলিম দার্শনিকদের দাবি খণ্ডন করা হয়েছে, যারা বলে যে পৃথিবীর স্রষ্টা আছে; কিন্তু তিনি সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান রাখেন। সৃষ্টিজগতের খুঁটিনাটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তিনি জানেন না। সৃষ্টিজগতের নিত্যনতুন পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি অবগত নন। মুসলিম দার্শনিকরা তাদের সমুদয় যুক্তি খণ্ডন করেছেন। (আততাহরির ওয়াততানভির : ১৩/৯৮)
আলোচ্য আয়াতে দেখা যায়, খুঁটিনাটি ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়ে আল্লাহর জ্ঞান থাকার বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আরো অনেক আয়াত আছে। এক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অদৃশ্যের চাবিগুলো তাঁর কাছেই আছে। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। জলে ও স্থলে যা কিছু আছে, তা তিনিই অবগত। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মৃত্তিকার অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না এবং রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফুজে) নেই।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)
অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৩৮)
যদি কেউ স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস না করে, তাহলে তার কাছে এ প্রসঙ্গ অর্থহীন যে বস্তুর মৌলিক বিষয়ে স্রষ্টার জ্ঞান আছে, নাকি বস্তুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়ে তিনি অবগত। তবে হ্যাঁ, যিনি বিশ্বাস করেন যে এ বিশ্বজগতের একজন স্রষ্টা আছেন, তাঁর কাছে এ প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেও কেউ সৃষ্টিজগতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়ে স্রষ্টার জ্ঞান অস্বীকার করে, তার মানে হলো, বিশেষ বিষয়ে স্রষ্টা অবগত নন! এ বিষয়ে তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ নন! তাহলে প্রশ্ন হলো—এমন সত্তা কিভাবে স্রষ্টা হতে পারেন, যিনি বিশেষ কিছু বিষয়ে জানেন না? অজ্ঞতা ও অসম্পূর্ণতা স্রষ্টা হওয়ার অন্তরায়। কাজেই যিনি স্রষ্টা হবেন, তাঁকে অবশ্যই সর্বজ্ঞানী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। সুতরাং স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করলে অবশ্যই স্রষ্টার সর্বময় জ্ঞান সম্পর্কেও বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।
মানুষ চোখ দিয়ে দেখে। সামান্য দূরত্বে চোখের সামনে যা কিছু থাকে, সব কিছুই মানুষের নজরে পড়ে। ক্ষুদ্র পিপীলিকা থেকে শুরু করে বৃহত্তম বস্তুও মানুষ দেখতে পায়। যার চোখে যত বেশি দর্শনশক্তি আছে সে তত বেশি দেখতে পায়। যদি কল্পনা করা যায় যে সূর্যের চোখ আছে, তাহলে যেখানে যেখানে সূর্যের আলো আছে, সেখানকার সব কিছু সূর্য দেখতে পাবে। মানুষের চোখে দর্শনশক্তি সীমিত বলেই মানুষ দূরের কোনো কিছু দেখতে পায় না। অন্যদিকে মহান আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাত। সৃষ্টিজগতের সব কিছুই তাঁর সামনে বিদ্যমান। তাই তিনি সৃষ্টিজগতের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র বস্তুও দেখতে পান। তাঁর কুদরতের আলো গোটা সৃষ্টিজগেক ঘিরে আছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ আসমান ও জমিনের জ্যোতিস্বরূপ...।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩৫)
গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ
Latest