জংলী ফকিরদের মুখশ উম্মচন।

জংলী ফকির
আমাদের দেশে এক ধরনের ফকির দরবেশ দেখা যায় যারা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় থাকে তাদের চেনার উপায় হচ্ছে তারা জীর্ণ ময়লা লাল রংগের কাপড়ে কোণ রকমে লজ্জাস্থান ডেকে রেখেছে, চুলে বড় রকমের জট ধরেছেন, হাতে বড় রকমের একটি অথাবা আরো বেশি হসবীহ যা দ্বারা সে সব সময় তসবীহ পাঠ করে থাকে। পায়ে জুতা নেই, আর ময়লা কি পরিমান তা বুঝতেই পারছেন। নখ যে কত বড় হয়েছে এবং তাতে কি পরিমাণ ময়লা তা লেখার প্রয়োজন মনে করছি না।
তাদের মধ্যে কারো হাতে, কানে বালা, শরীর শিকল দিয়ে বাধা। গলায় বেশ কয়েক্টা বড় রকমের মালা। মাথায় পাগড়ির ন্যায় লাল কাপড বাধা। হাতের আঙ্গুলে বড় রকমের কয়েক্টা আংটি, তাতে আল্লাহ তায়ালার নাম অথবা কালেমা লিখা। সেটা হাতে নিয়েই পায়খানা প্রসাবের কাজ সমাধা করে। গোফগুলো বড় হয়ে মুখের ভিতর প্রায় অর্ধেক প্রবেশ করেছে।
সপ্তাহে একদিন গোসল করে কি-না সেই ভাল জানে। দাঁতগুলি কতদিন পর পরিস্কার করে বলা মুশকিল। সারা রাত মদ, গাজা খেয়ে মাতলামি করার পর সকাল দশটায় ঘুম থেকে উঠে মুখ না ধুয়েই নাস্তা করা আরম্ভ করে।
তা ছাড়া তার খেদমত সব সময়ই ছলছে। কেউ মাথা টপছে, কেউ বা হাত, কেউ বা পা, আর মাঝে মাঝে তার শিষ্যরা ঢোল বাজাচ্ছে এবং ঢোলের তালে ভীষনভাবে লাফাচ্ছে। এরাই হচ্ছে ফকির দরবেশ। অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম্ম এর নিম্মলিখিত হাদীস দুটি থেকে স্পস্টই প্রমানিত হয় যে, তারা মানুষ্কে ধোকা দেয়ার জন্যই এ সমস্ত কাজ করে এবং তাদের সব কাজই হাদীসে পরিপন্থী।
হাদিস
আবুহুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জা হল ঈমানের অঙ্গ এবং ঈমান্দার ব্যক্তি বেহেশ্তি হবে। আর লজ্জাহীন্তা হল পাপ, আর পাপী ব্যক্তি জাহান্নামী। ( আহমদ, তিরমিযি)
ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জা হল শুধু কল্যান-ই আনয়ন করে। অণ্য এক বর্ণনা মতে লজ্জার সবটুকুই কল্যানকর। (বুখারী, মুসলিম)
যারা অর্ধ উলঙ্গ গাছের নিজে আশ্রয় নেয়, যাদের মধ্যে লজ্জা ও শরমের লেশ্মাত্র নেই, সেই অসভ্য জংলী মানুষগুলো নিজেদেরকে আল্লাহর অলী বলে দাবী করে। অথচ উপ্রে উল্লিখিত হাদিসগুলি থেকে স্পস্টই প্রমানিত হচ্ছে যে, লজ্জাই ঈমানের অঙ্গ যার লজ্জা নেই সে পাপী আর পাপীদের জণ্য আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম তৈরী করে রেখেছেন।
ঐ সমস্ত ফকিরদের চরিত্রহীনতার মর্মে উপরে যা ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তাতে একজন সচেতন জ্ঞানী ব্যক্তি সহজেই ফকিরদের ভন্ডামি সবই ধরতে পারবেন।
নিম্ন লিখিত দুইটি হাদীস থেকে স্পস্ট প্রমানিত হয়-
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম অপরিস্কার ও অপরিচ্ছনতা মোটেই পচন্দ করতেন না।
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত , একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আসেন। তিনি আমাদের নিক্ট এমন একজন লোককে দেখলেন যার শরীরে ছিল ধূলা-বালি এবং মাথার চুল ছিল এলোমেলো। তখন রাসুল (সাঃ) বলেন লোকটির কি কোন চিরুনি নেই যা দিয়ে সে তার মাথার চুল আচড়াতে পারে? তিনি আর একজন লোককে দেখলেন যার পরিধানে ছিল ময়লা কাপড়। রাসুল (সাঃ) বলেন এ লোকটির নিকট কি (সাবান জাতীয়) এমন কিছু নেই যা দিয়ে সে তার কাপড়-চোপড় পরিস্কার করতে পারে?
( আহমদ, নাসাঈ)
অন্য হাদীস থেকে আরো প্রমানিত হয় যে, রাসুল (সাঃ) পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতাই পচন্দ করতেন।
আতা ইবনে ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত , রাসুল (সাঃ) একদা মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। ইতি মধ্যে এক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করল যার মাথার চুল এলোমেলো। রাসুল (সাঃ) তার প্রতি হাত দ্বারা এমনভাবে ইশারা করলেন যেন তিনি তাকে চুল ও দাড়ি ঠিক করে (আচড়ানোর) নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সে ব্যক্তি ফিরে গিয়ে দাড়ি, চুল ঠিক করে (আচড়িয়ে) ফিরে এলো। এবার রাসুল (সা) বলেন এক ব্যক্তির উসকো-খুশকো মাথা অপেক্ষা এ (আচড়ানো সুন্দর) অবস্থা কি উত্তম নয়? ইতিপুর্বে তো তাকে শয়তানের ন্যায় দেখাচ্ছিল।
( মুয়াত্তা মালিক)
সত্যি ঐ সমস্ত জংলীর মত মানুষগুলো যাদের চুল পরিস্কার না করার কারনে জট ধরে গেছে, যারা নিজেদের ফকির বলে দাবী করে তারাই হচ্ছে শয়তান, যা উক্ত হাদীস থেকে স্পস্ট প্রমানিত হয়। রাসুল (সাঃ) তার পবিত্র মুখেই একথা বলে গেছেন, এবং তিনি সব সময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকারই নির্দেশ দিতেন যা নিম্নলিখিত আর্ব একটি হাদিস থেকে প্রমাণিত হচ্ছে-
আবুল আহওয়াস (রাঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি একবার রাসুল (সাঃ) এর খেদমতে হাজির হলাম এই অবস্থায় যে আমার পোষাক অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। মহনবী (সাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নিকট ধন-সম্পদ আছে কি? আমি বললাম হাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি প্রকারের সম্পদ আছে? আমি জবাবে বললাম, সকল প্রকারের সম্পদ আছে – যেমন উট, গাভী, বকরী, ঘোড়া, এবং দাস ইত্যাদি। আল্লাহ আমাকে সব ধরনের সম্পদ দান করেছেন। রাসুল (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহ যখন তোমাকে ধন-সম্পদ দান করেছেন তখন তার নেয়ামতের নিদর্শন তোমার শরীর প্রকাশ পাওয়া উচিত। ( আহমদ, নাসাঈ)
আল্লাহ তাআলা যখন সব কিছু দান করেন, তখন সেই অবস্থা অনুযায়ি উত্তম পোশাক পরিধান করাই উচিত। এ কেমন কথা যে, মানুষের নিকট সব কিছু থাকা সত্ত্বেও ফকিরি বেশ চলবে? এতে আল্লাহ তায়ালার অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। অনেকে এই ধরনের দরবেশি করে নিজের প্রহেযগারী প্রকাশ করতে চায়। যদি সে সত্যি সেই আল্লাহর ভয়েই এমনি ভাবে চলতে চায় তাহলে তার সম্পদ্গুলি আল্লাহর পথে খরচ করে দেয় না কেন?
জ্ঞানি লোকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারবে, ঐ সমস্ত ফকিরদের চরিত্র বলতে কোন কিছুই নেই। তাছেড়া একজন সত্যিকার চরিত্রবান মুমিন ব্যক্তি কোণ দিনই ঐ সমস্ত কাজ কর্ম করতে ও লেবাস পোষাক পরতে পারে না, বরং মুমিন ব্যক্তি সব সময়ই চরিত্রের উন্নত ও চরিত্রহীনদের অনুসারী হতে পারে না।
রাসুল (সাঃ) নৈতিক চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই বারংবার তাকিদ করেছেন। যা নিম্নলিখিত হাদীসগুলি থেকে প্রমাণিত হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম যে চরিত্রের দিক দিয়ে উত্তম।( বুখারী, মুসলিম)
আবু সালাবাহ (রাঃ) হতে বর্নিত, মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আমার নিকট বেশি প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার অতী নিকটবর্তী হবে যে চরিত্রবান। আর তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আমার নিকট অপ্রিয় ও আমার থেকে অতি দূরে যে অসচ্চরিত্র সম্পন্ন, অতিরিক্ত কথা বলে, বাচাল এবং অহংকারী। ( বাইহাকী)
মো’য়ায ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেছেন, আমাকে (শাসক হিসাবে ইয়ামানে পাঠাবার সময়) ঘোড়ার রেকাবে পা রাখার অবস্থায় রাসুল (সাঃ) শেষ উপদেশ দিয়ে বলেছিলেনঃ হে মো’য়ায লোকের সামনে সর্বোত্তম চরিত্রের নমুনা পেশ করবে। (মোয়াত্তা মালেক)
মা আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণীত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ) বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় একজন মুমিন ব্যক্তি তার উত্তম চরিত্র গুনে সেই সব আবেদ লকের মর্যাদা লাভ করতে পারে যারা সারা রাত নামাযে কাটায় এবং সারা বছরই রোযা রাখে । (আবু দাঊদ)
অনেকেই মনে করে যে, যারা সত্যিকার আলাহ তায়ালার ওলী তারা সব সময় অপরিস্কার হয়ে জীর্ণ ময়লা কাপড়ে পরেই থাকে। তাদের চিন্তা-ভাবনা যে ফকিরগন আল্লাহর যিকির আযকারে এমনই (মশগুল) ব্যস্ত থাকে যে, তারা ভাল কাপড় পরিধান অথবা নিজেকে পরিস্কার রাখার সময়ই পায় না। আবার অনেকেই মনে করে, যে ব্যক্তি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে এবং পরিস্কার পোশাক পরিধান করে সে দুনিয়াদার। আল্লাহ তায়ালার সত্যিকার অলীগন আল্লাহকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তারা পরিস্কার পরিচ্চন্ন হয়ে থাকারও সময় পায় না। তাদের এই সমস্ত ধারনা সবই রাসুল (সাঃ) এর পবিত্র জীবনাদর্শের পরীপন্থি যা নিম্নহাদিস দ্বারা প্রমানিত হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ ( রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন- যার অন্ত্রে বিন্দু পরিমান অহংকার থাকবে সে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বলল, কেহ যদি তার লেবাস, পোশাক ও জুতা উত্তম হওয়া পছন্দ করে? তাহলে সেটাও কি অহংকার?) । তখন রাসুল (সাঃ) বলেছেন – অবশ্যই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পচন্দ করেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হল আল্লাহর গোলামী হতে বেপরওয়া এবং মানুষ্কে তচ্ছ মনে করা। (মুসলিম)
উপরে উল্লিখত হাদিসটিতে আল্লাহর নবী (সাঃ) অহংকার এবং পরিচ্ছন্নতা বোধের পার্থক্যটা সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। নবী (সাঃ) বলেছেনঃ কোন এক লোকের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা সুন্দর ও উত্তম জুতা ইত্যাদি পরিধান করা অহংকার নয়। বরঙ্গ অহংকার হল মনের এমন একটি অবস্থা, যার ফলে অহংকারী ব্যক্তি নিজেকে উত্তম ও অপরকে অধম মনে করে। পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার কথাই রাসুল (সাঃ) বলেছেন, কেননা আল্লাহ তা’য়ালা স্বয়ং পবিত্র এবং পবিত্রতাকে পচন্দ করেন।
অনেকের ধারনা তারাই আল্লাহ তায়ালার সত্যিকার ওলী যারা ঘর-বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সব ছেড়ে কোণ জঙ্গলে অথবা কোন গাছেন নিছে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে বসেই দিনরাত আল্লাহ তায়ালার যিকির-আযকার করে। তাদের ধারনা আল্লাহ তায়ালার অলীগন বিয়ে সাদীও করে না। কারন বিয়ে করলে দুনিয়াদার হতে হয়, সংসারের চিন্তা এসে যায়, সন্তান-সন্তানাদির চিন্তা এসে যায়, এসে সেই মহান আল্লাহর চিন্তা ও ভয় মন থেকে দূর হয়ে যায় এবং যার মনে আল্লাহ তায়ালার ভয় থাকে না। সে আবার আল্লাহ তায়ালার ওলী হল কি ভাবে? তাদের এই যুক্তি অনুযায়ী রাসুল (সাঃ) নিজেও আল্লাহ তায়ালার সত্যিকার অলী ছিলেন না। (নাউজুবিল্লাহ) কারন, তিনি বিয়ে করেছেন, সংসার করেছেন, ব্যবসা-বানিজ্য ও দুনিয়াদারী করেছেন। যারা ঐরুপ ধারনা পোষন করে যে, সত্যিকার অলীরা জঙ্গলে থাকে, বিয়ে-শাদি করে না, তারা আজীবন শুধু এই ধারনাই বিশ্বাস । তাদের দাবীর স্বপক্ষে কোণ দলীল প্রমান নেই। বরং তাদের এই ভ্রান্ত ধারনাকে অযৌক্তিক প্রমাণিত করে হাদিসে নব্বীতে এরশাদ হয়েছেঃ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ একদা নবী (সাঃ) যুবকদেরকে লক্ষ করে বললেনঃ যে যুবক সম্প্রদায় তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালন করার ক্ষমতা রাখে, তাদের উচিত বিবাহ করা। কারন বিবাহ দৃস্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালন করার ক্ষমতা রাখে না, তার উচিত রোজা (সিয়াম) রাখা। কারন রোযা (সিয়াম) তার প্রবৃত্তিকে দমন করবে। ( বুখারী, মুসলিম )
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন ঃ একদা নবী (সাঃ) এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জণ্য তিন ব্যক্তি তার বিবিদের কাছে উপস্থিত হলেন। অতঃপর নবী (সাঃ) এর ইবাদত সম্পর্কে তাদেরকে জানানো হলো তখন তারা রাসুল (সাঃ) এর কি তুলনা হতে পারে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তার আগের ও পরের গুনা মাফ করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদের একজন বলল, আমি সারা বছরই রোযা রাখবো এবং কোণ দিনই রোযা ত্যাগ করবো না। আরেক জন বললো আমি এখন থেকে সারা রাত নামাযে কাটাব। শেষ ব্যক্তি বলেন আমি মেয়েদের সান্নিধ্য হতে দূরে থাকবো এবং কখনো বিয়ে-শাদী করব না। হঠাত নবী (সাঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেসে করলেন, ওহে তোমরা কি এসব কথা বলেছো? সাবধান! আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহ ভিরু সবচেয়ে বেশি পরহেযগার, তা সত্ত্বেও আমি কখনও রোযা রাখি, আবার কখনো রোযা (নফল) ছেডে দি। নামার পড়ি এবং নিদ্রাও যাই, এবং বৈবাহিক জীবন-যাপন করি। সুতারাং যে ব্যক্তি আমার এই সুন্নত অনুসরন করবে না সে আমার উম্মতভুক্ত নয়।
পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা নবীদের মাধ্যমে মানূষের জণ্য যে জীবন ব্যবস্থা দান করেছেন তা যথাযথ মেনে চলার মধ্যেই ইহকাল ও পরকালের কল্যান নিহিত রয়েছে।
ঈসা (আ:) এর উম্মতের অন্তর্ভক্ত একদল আল্লাহ ভিরু লোক দুনিয়ার যাবতীয় কাজ-কর্ম ছেড়ে জংগল, পর্বত ও গুহা ইত্যাদিতে আশ্রয় নিয়ে দিন-রাত শুধু আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে মশগুল ছিল, তাদের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মাহাম্মাদীকে সতর্ক করতঃ ইরশাদ করেন
وَرَحْمَةً
وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاء رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا
আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। [ সুরা হাদীদ ৫৭:২৭ ] .
তারা এই ভাবে বুজুর্গ হতে চেয়েছে
তাছাড়া রাসুল (সাঃ) এ ও বলেছেন যদি কেউ নিজেকে নেককার বলে দাবি করে আর তার মধ্যে আমার একটি সুন্নতের খেলাফ দেখতে পাও তাহলে মনে করবে সে শয়তান। অথচ ঐ সমস্ত ফকিরদের মধ্যে একটি সুন্নাতের খেলাফ কেন বরং সন্নত বলতে কোন কিছুই নেই। এমনকি নামায কাকে বলে জানে না। হারাম ও হালালের মধ্যে পার্থক্যর জ্ঞান নেই। তারাই হচ্ছে ফকির। একজন সচেতন জ্ঞানী ব্যক্তি ঐ সমস্ত অসভ্য ও জংলীর মত মানষগুলিকে কোণ দিনই আল্লাহ তায়ালার ওলী বলে স্বীকার করে নিতে পারে না।
তাই আসুন এদের থেকে সাবধান হই।
এদের থেকে যত দূরে থাকা সম্ভব হওয়া যায় সে পথ অবলম্বন করুন।
সবাইকে এই দরনের যত জংলী ফকির আছে তাদের থেকে সাবধান করার জণ্য বেশি করে শেয়ার করুন।
আল্লাহ আপনাদের আমাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।আমীন।
সংগ্রহ- বই
ফকির ও মাযার থেকে সাবধান।
লেকখ- হাফেয মাওলানা হুসাইন বিন সোহরাব ( অনার্স – হাদিস)
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা – সৌউদী আরব।