ও মুরিদ জাতি আর কত দিন পীরের উপর ভরসা করে থাকবি?
যে কেউ কোরান পড়লে পীরও মুরিদি বর্জন করতে বাধ্য হবে। ইনশা আল্লাহ।
কারন পীর গুলি যে ১০০% ধোকাবাজ তা কোরআন পড়লেই বুজতে পারবেন।
পীরগুলি সারা দ্বীন মুরিদের উপর ভরসা করে থাকে যে, কোন মুরিদের কত টাকা দেয় তা দেখে, কোন দিন দান্দা কম হইলে সে দিন আর মাথা ঠিক থাকে না। পরে উলটা পালটা কথা শুরু করে দেয়, এমন কথাব বলবে যা পূর্বের কেউ আর শুনে নাই। আর মুর্খ অসহায়, নির্লজ্জ, অন্ধ, জাহেল মুরিদরা পীরের মাজারে টাকা দেয়, গরু, ছাগল, মাছ, হাস, মুরগি, ইত্যাদি পাঠায় এই জন্য যে সে কঠিন কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তার জন্য সুপারিশ বা শাফাআত করবে এই জন্য।
ও মুরিদ জাতি পাপ করবি তুই শাফাআত করবে আরেক জনে এটা কি ভাবে বুঝলি?
ও মুরিদ জাতি তুমি যেখানে চাকরি কর সে চাকরি বেতন যদি কোম্পানি আরেক জনকে দিয়ে দেয় তখন তো তুমি পুলিশ,ও আইনের আশ্রয় নিবে।
আর সে কিয়ামত এর দিন তোমার পাপের জন্য এই পীর গুলি শাফাআত করবে?
এটা কি ভাবে বিশ্বাস করলি?
আমি তোমাকে সন্দর ভাষায় বলতে চাচ্ছি কোরান পড় তাহলে তুমি সঠিক পথ খুঝে পাবে। কেউ তোমাকে ধোকা দিতে পারবে না। ইনশা আল্লাহ।
আমাদের জন্য আমাদের আল্লাহ যথেষ্ট। ইনশা আল্লাহ। (বিস্তারিত নিছে কোরানের আয়াত গুলি ভাল করে পড়ে নিন)
===================================
ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সকল প্রশংসা আল্লাহর । সালাত-সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর। এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও অনুসারীদের উপর।
কোরআন-সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা একথা প্রমাণিত যে, আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বময় কর্তৃত্ব, রাজত্বের অধিকারী । সব কিছুর মালিকানা তাঁরই।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
বস্তুতঃ ইহকাল ও পরকাল আল্লাহরই। ( সূরা নাজম : ২৫)
জেনে রাখো, সৃষ্টি ও কর্তৃত্ব তাঁরই। ( সূরা আ’রাফ : ৫৪)
আকাশ ও জমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। ( সূরা বাকারা : ২৮৪)
বলো হে নবী, যাবতীয় বিষয় আল্লাহরই এখতিয়ারে। ( সূরা আলে ইমরান : ১৫৪)
আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন,
(আজ রাজত্ব কার ? সে তো একক প্রবল-পরাক্রান্ত আল্লাহর । ( সূরা মুমিন : ১৬
তিনি আরো বলবেন,
আজ তোমাদের কেউ কারো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখবে না। ( সূরা সাবা : ৪২)
তিনি তাঁর নবীকে এভাবে জানিয়ে দিয়েছেন:
হে নবী! বিচার দিবস সম্বন্ধে তুমি কী জান? আবার বলছি, বিচার দিবস সম্বন্ধে তুমি কী জান?” এটা সেই দিন যেদিন কেউ কারো জন্য কিছু করার সামর্থ রাখবে না। সেইদিন একক কর্তৃত্ব হবে স্রেফ আল্লাহর । ( সূরা ইনফিতার : ১৭ - ১৯)
যে কেউ কোরান পড়লে পীরও মুরিদি বর্জন করতে বাধ্য হবে। ইনশা আল্লাহ।
কারন পীর গুলি যে ১০০% ধোকাবাজ তা কোরআন পড়লেই বুজতে পারবেন।
পীরগুলি সারা দ্বীন মুরিদের উপর ভরসা করে থাকে যে, কোন মুরিদের কত টাকা দেয় তা দেখে, কোন দিন দান্দা কম হইলে সে দিন আর মাথা ঠিক থাকে না। পরে উলটা পালটা কথা শুরু করে দেয়, এমন কথাব বলবে যা পূর্বের কেউ আর শুনে নাই। আর মুর্খ অসহায়, নির্লজ্জ, অন্ধ, জাহেল মুরিদরা পীরের মাজারে টাকা দেয়, গরু, ছাগল, মাছ, হাস, মুরগি, ইত্যাদি পাঠায় এই জন্য যে সে কঠিন কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তার জন্য সুপারিশ বা শাফাআত করবে এই জন্য।
ও মুরিদ জাতি পাপ করবি তুই শাফাআত করবে আরেক জনে এটা কি ভাবে বুঝলি?
ও মুরিদ জাতি তুমি যেখানে চাকরি কর সে চাকরি বেতন যদি কোম্পানি আরেক জনকে দিয়ে দেয় তখন তো তুমি পুলিশ,ও আইনের আশ্রয় নিবে।
আর সে কিয়ামত এর দিন তোমার পাপের জন্য এই পীর গুলি শাফাআত করবে?
এটা কি ভাবে বিশ্বাস করলি?
আমি তোমাকে সন্দর ভাষায় বলতে চাচ্ছি কোরান পড় তাহলে তুমি সঠিক পথ খুঝে পাবে। কেউ তোমাকে ধোকা দিতে পারবে না। ইনশা আল্লাহ।
আমাদের জন্য আমাদের আল্লাহ যথেষ্ট। ইনশা আল্লাহ। (বিস্তারিত নিছে কোরানের আয়াত গুলি ভাল করে পড়ে নিন)
===================================
ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সকল প্রশংসা আল্লাহর । সালাত-সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর। এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও অনুসারীদের উপর।
কোরআন-সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা একথা প্রমাণিত যে, আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বময় কর্তৃত্ব, রাজত্বের অধিকারী । সব কিছুর মালিকানা তাঁরই।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
বস্তুতঃ ইহকাল ও পরকাল আল্লাহরই। ( সূরা নাজম : ২৫)
জেনে রাখো, সৃষ্টি ও কর্তৃত্ব তাঁরই। ( সূরা আ’রাফ : ৫৪)
আকাশ ও জমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। ( সূরা বাকারা : ২৮৪)
বলো হে নবী, যাবতীয় বিষয় আল্লাহরই এখতিয়ারে। ( সূরা আলে ইমরান : ১৫৪)
আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন,
(আজ রাজত্ব কার ? সে তো একক প্রবল-পরাক্রান্ত আল্লাহর । ( সূরা মুমিন : ১৬
তিনি আরো বলবেন,
আজ তোমাদের কেউ কারো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখবে না। ( সূরা সাবা : ৪২)
তিনি তাঁর নবীকে এভাবে জানিয়ে দিয়েছেন:
হে নবী! বিচার দিবস সম্বন্ধে তুমি কী জান? আবার বলছি, বিচার দিবস সম্বন্ধে তুমি কী জান?” এটা সেই দিন যেদিন কেউ কারো জন্য কিছু করার সামর্থ রাখবে না। সেইদিন একক কর্তৃত্ব হবে স্রেফ আল্লাহর । ( সূরা ইনফিতার : ১৭ - ১৯)
আল্লাহ তাআলা যেমন ইহকাল ও পরকালের একমাত্র মালিক, ঠিক তেমনিভাবে শাফাআতের একচ্ছত্র মালিক তিনিই । সর্বপ্রকার শাফাআত তাঁরই এখতিয়ার বা কর্তৃত্বাধীন।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
বলো হে নবী! যাবতীয় শাফাআত একমাত্র আল্লাহরই এখতিয়ারে। আসমান-জমীনের কর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই। অত:পর তার দিকেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। ( সূরা যুমার : ৪৪)
আল্লাহর একটি সিফাতি নাম আছে شفيع -সুফারিশকারী। বান্দাদের প্রতি রহমত ও কারণা বশত: আল্লাহ নিজেই নিজের সত্ত্বার কাছে সুপারিশ করবেন। অতঃপর শাফাআতের কথা বা চিন্তা বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাফাআতের অনুমতি দিবেন।
আকাইদ শাস্ত্রবিদগণ বলেছেনঃ
هوالذي يشفع بنفسه إلى نفسه ليرحم عبده فيأذن هو لمن يشاء أن يشفع فيه فصارت الشفاعة في الحقيقة إنما هي له والذي يشفع عنده إنما يشفع بإذنه وأمره بعد شفاعته سبحانه إلى نفسه وهي إرادته من نفسه أن يرحم عبده . (مجوعة التوحيد : 678)
“তিনি নিজেই নিজ সত্ত্বার কাছে সুপারিশ করবেন বান্দার প্রতি দয়া করার জন্য। অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছা করেন, সুপারিশের অনুমতি দেবেন। প্রকৃতপক্ষে শাফাআত তাঁরই কতৃত্বাধীন। আর যে ব্যক্তি তাঁর নিকট সুপারিশ করবে সে তো আল্লাহর নিজ সত্ত্বার নিকট সুপারিশ করার পর তাঁরই অনুমতি ও নির্দেশে সুপারিশ করবে। তাই এ শাফাআত হচ্ছে বান্দার প্রতি তাঁর দয়া প্রদর্শনের ইচ্ছা মাত্র”।(মাজমুআতুত তাওহীদ : পৃঃ ২৭৮)
এজন্যই বিশ্ব বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহ.) বলেছেন,
لأن في يوم القيامة لا يملك أحد شيئا ولا يقدر أحد على الشفاعة إلا بإذن الله فيكون الشفيع في الحقيقة هو الله الذي يأذن في تلك الشفاعة ... وهذا هو المراد من قوله تعالى : قل لله الشفاعة جميعا . (تفسير الكبير ج /24-25 ص /285)
কেননা কিয়ামতের দিন কেউ কিছুই করতে পারবে না। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শাফাআতের উপরও কেউ সক্ষম হবে না। সুতরাং প্রকৃত শাফাআতকারী হলেন সেই আল্লাহ তাআলা যিনি এ শাফাআতের অনুমতি প্রদান করবেন।...আর এটাই আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী দ্বারা উদ্দেশ্য “বলো হে নবী, সকল সাফাআত একমাত্র আল্লাহর”। (তাফসীরে কবীর. খণ্ড ২৪-২৫, পৃ: ২৮৫)
বস্তুত শাফাআতের মালিকানা ও কর্তৃত্ব এককভাবে তাঁর নিজের জন্যই সংরক্ষিত। আল্লাহ তাআলা নিজের কাছে নিজের সুপারিশের পরে যারা সুপারিশ করবেন তারা তো তাঁরই অনুমতি বা নির্দেশ ক্রমেই করবেন এবং তা তাঁরই রহমতের প্রাকাশের কারণেই। এ হচ্ছে তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন। নবীগণের শাফাআত তো তাঁরই শাফাআতের প্রতিফলন মাত্র । তাঁর নির্দেশ বা অনুমতিক্রমে এ শাফাআত তথা সুপারিশ মূলত: তাঁরই সুপারিশের নামান্তর, যা রাস্তবায়ন করবেন নবী, ওলী, শহীদ, ফেরেশতা ও অন্যদের দ্বারা। সুতরাং তিনি ছাড়া কোনো شفيع সুপারিশকারী নেই। তাই তো মহান আল্লাহ কোরআনুল করীমে স্পষ্ট ঘোষণা করেনঃ
“তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী নেই। তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?। (সূরা সাজদাহ : ৪)
তিনি আরো বলেনঃ
“তিনি ছাড়া তাদের জন্য অন্য কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী নেই”। (সূরা আন আম : ৫১)
তিনি আরো বলেনঃ
তবে কি তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে শাফাআতকারী গ্রহণ করেছে ? (সূরা যুমার : ৪৩)
তিনি আরও বলেন,
তাঁর অনুমতি ছাড়া তো কোনো সুপারিশকারীই হতে পারে না। (সূরা ইউনুস : )
এজন্য শাফাআত প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহরই নিকট করতে হবে। কেননা, আদালতে আখিরাতের ভয়ঙ্কর দিনে কেউ নিজের ক্ষমতাবলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আকাশ ও পৃথিবীর মালিক রাজাধিরাজ ক্বাহহার যুল যালাল মহাপ্রতিপশালী আল্লাহর দরবারে শাফাআত করতে পারবে-এমন শক্তি কারো নেই। না আছে কোন পয়গাম্বরের, না আছে কোন ওলি-দরবেশের আর না আছে অন্য কারোর। এমন কি, টু শব্দটি করারও সাহস কারো থাকবে না। বরং সেদিন শাফাআত অস্তিত্ব লাভ করবে একমাত্র আল্লাহর অনুমতির মাধ্যমে। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো জন্য শাফাআত করতে পারবে না। এবং তার অনুমতি ছাড়া কোন সুপারিশকারীও থাকবে না।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
তাঁর অনুমতি লাভ না করে শাফাআত করাবার কেউ নেই। (সূরা ইউনুসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩)
কে আছে এমন যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট শাফাআত করতে পারবে? (সূরা বাক্বারা : ২৫৫)
তিনি যার জন্য সুপারিশের অনুমতি দিবেন সে সুপারিশ অন্য কারো কাজে আসবে না। (সূরা সাবা : ২৩)
দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন ও যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারো সুপারিশ সেদিন কোনো কাজে আসবে না। ( সূরা ত্বা-হা : ১০৯)
আল্লাহ তাআলা কাফেরদেরকে নয় বরং ঈমানদারদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছে তা থেকে তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো সে দিন আসার পূর্বে যেদিন বেচা-কেনা, বন্ধুত্ব ও শাফাআত কিছুই থাকবে না। সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরাই প্রকৃত যালিম বা অপরাধী। ( সূরা বাকারা : ১৫৪)
এআয়াতে ولا شفاعة শাফাআত বা সুপারিশ নেই, এ কথার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। বরং আল্লাহর অনুমতির মাধ্যমে শাফাআত অস্তিত্ব লাভ করবে।
বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়ামতের দিন সায়্যিদুশ শুফাআ’ বা শাফাআতকারীদের সর্দার হবেন। এ সত্ত্বেও তাঁর পক্ষেও আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারো জন্য শাফাআত করা সম্ভব হবে না। যতক্ষণ না তাকে সিজদাবনত কর, তাঁরই শাফাআত কবুল করা হবে” বলে অনুমতি দেয়া হবে। যেমন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই বলেছেনঃ
آتي تَحْتَ الْعَرْشِِ فَأَخِرُّ سَاجِدًا ... ثُمَّ يُقَالُ
আমি আরশের নিচে আসব আর সিজদায় লুটিয়ে পড়ব তারপর বলা হবেঃ
إرْفَعْ رَأسَكَ, قُلْ تُسْمَعْ, وَسَلْ تُعْطَ, وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ
হে মুহাম্মদ! তোমার মাথা উঠাও, বল, শোনা হবে। প্রার্থনা কর, তোমাকে দেয়া হবে। সুপারিশ করো, তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে”।
লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ যাল্লা শানুহু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে শাফাআতের অনুমতি দিয়েছেন এবং এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার শাফাআত মঞ্জুর করা হবে। অর্থাৎ ক্ষমাকারী বা উদ্ধারকারী হিসাবে আল্লাহই সার্বভৌম কর্তৃত্ববান।
কিয়ামতের দিন মহানবী নিজেই আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে বলবেনঃ
يَارَبِّ وَعَدْتَّنِيْ الشَّفَاعَةَ فَشَفِّعْنِي فِي خَلْقِكَ (شرح العقيدة الطحاوية /226 مكتبة الطائف)
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
বলো হে নবী! যাবতীয় শাফাআত একমাত্র আল্লাহরই এখতিয়ারে। আসমান-জমীনের কর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই। অত:পর তার দিকেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। ( সূরা যুমার : ৪৪)
আল্লাহর একটি সিফাতি নাম আছে شفيع -সুফারিশকারী। বান্দাদের প্রতি রহমত ও কারণা বশত: আল্লাহ নিজেই নিজের সত্ত্বার কাছে সুপারিশ করবেন। অতঃপর শাফাআতের কথা বা চিন্তা বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাফাআতের অনুমতি দিবেন।
আকাইদ শাস্ত্রবিদগণ বলেছেনঃ
هوالذي يشفع بنفسه إلى نفسه ليرحم عبده فيأذن هو لمن يشاء أن يشفع فيه فصارت الشفاعة في الحقيقة إنما هي له والذي يشفع عنده إنما يشفع بإذنه وأمره بعد شفاعته سبحانه إلى نفسه وهي إرادته من نفسه أن يرحم عبده . (مجوعة التوحيد : 678)
“তিনি নিজেই নিজ সত্ত্বার কাছে সুপারিশ করবেন বান্দার প্রতি দয়া করার জন্য। অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছা করেন, সুপারিশের অনুমতি দেবেন। প্রকৃতপক্ষে শাফাআত তাঁরই কতৃত্বাধীন। আর যে ব্যক্তি তাঁর নিকট সুপারিশ করবে সে তো আল্লাহর নিজ সত্ত্বার নিকট সুপারিশ করার পর তাঁরই অনুমতি ও নির্দেশে সুপারিশ করবে। তাই এ শাফাআত হচ্ছে বান্দার প্রতি তাঁর দয়া প্রদর্শনের ইচ্ছা মাত্র”।(মাজমুআতুত তাওহীদ : পৃঃ ২৭৮)
এজন্যই বিশ্ব বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহ.) বলেছেন,
لأن في يوم القيامة لا يملك أحد شيئا ولا يقدر أحد على الشفاعة إلا بإذن الله فيكون الشفيع في الحقيقة هو الله الذي يأذن في تلك الشفاعة ... وهذا هو المراد من قوله تعالى : قل لله الشفاعة جميعا . (تفسير الكبير ج /24-25 ص /285)
কেননা কিয়ামতের দিন কেউ কিছুই করতে পারবে না। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শাফাআতের উপরও কেউ সক্ষম হবে না। সুতরাং প্রকৃত শাফাআতকারী হলেন সেই আল্লাহ তাআলা যিনি এ শাফাআতের অনুমতি প্রদান করবেন।...আর এটাই আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী দ্বারা উদ্দেশ্য “বলো হে নবী, সকল সাফাআত একমাত্র আল্লাহর”। (তাফসীরে কবীর. খণ্ড ২৪-২৫, পৃ: ২৮৫)
বস্তুত শাফাআতের মালিকানা ও কর্তৃত্ব এককভাবে তাঁর নিজের জন্যই সংরক্ষিত। আল্লাহ তাআলা নিজের কাছে নিজের সুপারিশের পরে যারা সুপারিশ করবেন তারা তো তাঁরই অনুমতি বা নির্দেশ ক্রমেই করবেন এবং তা তাঁরই রহমতের প্রাকাশের কারণেই। এ হচ্ছে তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন। নবীগণের শাফাআত তো তাঁরই শাফাআতের প্রতিফলন মাত্র । তাঁর নির্দেশ বা অনুমতিক্রমে এ শাফাআত তথা সুপারিশ মূলত: তাঁরই সুপারিশের নামান্তর, যা রাস্তবায়ন করবেন নবী, ওলী, শহীদ, ফেরেশতা ও অন্যদের দ্বারা। সুতরাং তিনি ছাড়া কোনো شفيع সুপারিশকারী নেই। তাই তো মহান আল্লাহ কোরআনুল করীমে স্পষ্ট ঘোষণা করেনঃ
“তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী নেই। তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?। (সূরা সাজদাহ : ৪)
তিনি আরো বলেনঃ
“তিনি ছাড়া তাদের জন্য অন্য কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী নেই”। (সূরা আন আম : ৫১)
তিনি আরো বলেনঃ
তবে কি তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে শাফাআতকারী গ্রহণ করেছে ? (সূরা যুমার : ৪৩)
তিনি আরও বলেন,
তাঁর অনুমতি ছাড়া তো কোনো সুপারিশকারীই হতে পারে না। (সূরা ইউনুস : )
এজন্য শাফাআত প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহরই নিকট করতে হবে। কেননা, আদালতে আখিরাতের ভয়ঙ্কর দিনে কেউ নিজের ক্ষমতাবলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আকাশ ও পৃথিবীর মালিক রাজাধিরাজ ক্বাহহার যুল যালাল মহাপ্রতিপশালী আল্লাহর দরবারে শাফাআত করতে পারবে-এমন শক্তি কারো নেই। না আছে কোন পয়গাম্বরের, না আছে কোন ওলি-দরবেশের আর না আছে অন্য কারোর। এমন কি, টু শব্দটি করারও সাহস কারো থাকবে না। বরং সেদিন শাফাআত অস্তিত্ব লাভ করবে একমাত্র আল্লাহর অনুমতির মাধ্যমে। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো জন্য শাফাআত করতে পারবে না। এবং তার অনুমতি ছাড়া কোন সুপারিশকারীও থাকবে না।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
তাঁর অনুমতি লাভ না করে শাফাআত করাবার কেউ নেই। (সূরা ইউনুসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩)
কে আছে এমন যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট শাফাআত করতে পারবে? (সূরা বাক্বারা : ২৫৫)
তিনি যার জন্য সুপারিশের অনুমতি দিবেন সে সুপারিশ অন্য কারো কাজে আসবে না। (সূরা সাবা : ২৩)
দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন ও যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারো সুপারিশ সেদিন কোনো কাজে আসবে না। ( সূরা ত্বা-হা : ১০৯)
আল্লাহ তাআলা কাফেরদেরকে নয় বরং ঈমানদারদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছে তা থেকে তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো সে দিন আসার পূর্বে যেদিন বেচা-কেনা, বন্ধুত্ব ও শাফাআত কিছুই থাকবে না। সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরাই প্রকৃত যালিম বা অপরাধী। ( সূরা বাকারা : ১৫৪)
এআয়াতে ولا شفاعة শাফাআত বা সুপারিশ নেই, এ কথার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। বরং আল্লাহর অনুমতির মাধ্যমে শাফাআত অস্তিত্ব লাভ করবে।
বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়ামতের দিন সায়্যিদুশ শুফাআ’ বা শাফাআতকারীদের সর্দার হবেন। এ সত্ত্বেও তাঁর পক্ষেও আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারো জন্য শাফাআত করা সম্ভব হবে না। যতক্ষণ না তাকে সিজদাবনত কর, তাঁরই শাফাআত কবুল করা হবে” বলে অনুমতি দেয়া হবে। যেমন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই বলেছেনঃ
آتي تَحْتَ الْعَرْشِِ فَأَخِرُّ سَاجِدًا ... ثُمَّ يُقَالُ
আমি আরশের নিচে আসব আর সিজদায় লুটিয়ে পড়ব তারপর বলা হবেঃ
إرْفَعْ رَأسَكَ, قُلْ تُسْمَعْ, وَسَلْ تُعْطَ, وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ
হে মুহাম্মদ! তোমার মাথা উঠাও, বল, শোনা হবে। প্রার্থনা কর, তোমাকে দেয়া হবে। সুপারিশ করো, তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে”।
লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ যাল্লা শানুহু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে শাফাআতের অনুমতি দিয়েছেন এবং এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার শাফাআত মঞ্জুর করা হবে। অর্থাৎ ক্ষমাকারী বা উদ্ধারকারী হিসাবে আল্লাহই সার্বভৌম কর্তৃত্ববান।
কিয়ামতের দিন মহানবী নিজেই আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে বলবেনঃ
يَارَبِّ وَعَدْتَّنِيْ الشَّفَاعَةَ فَشَفِّعْنِي فِي خَلْقِكَ (شرح العقيدة الطحاوية /226 مكتبة الطائف)
হে আমার রব! আপনি আমাকে শাফাআতের ওয়াদা দিয়েছিলেন। অতএব আমাকে আপনার সৃষ্টির জন্য সুপারিশকারী বনিয়ে দিন”। )শরহু আকীদাতিত তাহাভিয়া, পৃ : ২২৬)
তখন তাঁকে সুপারিশকারী বানিয়ে দেয়া হবে। অতএব বুঝা গেল যে, কিয়ামত দিবসে অনুষ্ঠিত শাফাআত একমাত্র আল্লাহরই অনুমতি সাপেক্ষ। অর্থাৎ যাকে ইচ্ছা সুপারিশের অনুমতি দেয়া ও যাকে ইচ্ছা না দেয়া এবং যার জন্য ইচ্ছা করতে দেয়া আর যার জন্য ইচ্ছা করতে না দেয়া এবং কারো শাফাআত শোনা বা না শোনা আর তা কবুল করা বা না করা সর্বশক্তিমান আল্লাহর একক এখতিয়ারে। তিনি ছাড়া যে-ই হোক না কেন তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ শাফাআত করার সাহস করতে পারবে না। তাই যারা আদালতে আখিরাতে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শাফাআত লাভের উচ্চাকাঙ্খা রাখে তার জন্য উচিত, শাফাআত ও দোয়া কবুলের মালিক মহান আল্লাহর দরবারেই শাফাআত ও অন্যান্য বিষয়ে দু’আ করা। যাতে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমাদের জন্য শাফাআত করার অনুমতি প্রদান করেন। যেমনিভাবে সমস্ত সৃষ্টিকুল তাঁরই নিকট প্রার্থনা করে থাকে।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
আকাশ ও পৃথিবীর সবাই তাঁরই সমীপে প্রার্থনা করে। ( সূরা আর-রাহমান : ২৯)
তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
لِيَسْأَلْ أَحَدُ كُمْ رَبَّهُ حَاجَاتَهِ كُلَّهَا حَتّى يَسْألَ شَسْعَ نَعْلِه اِذَا انْقَطَعَ (رواه الترمذي وابن حبان, صحيح الأذكار /50)
“তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ পালনকর্তা আল্লাহর নিকট যাবতীয় হাজাত ও প্রযোজনের প্রার্থনা করা কর্তব্য; এমন কি নিজের জুতার ফিতাও প্রার্থনা করবে যদি তা ছিড়ে যায়”। (বর্ণনায় তিরমিযী, হাকিম, মিশকাত ও সহীহুল আযকার, পৃ : ৫০)
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, আখেরাতে অনুষ্ঠেয় শাফাআতের প্রর্থনার বিষয়টি আমাদের অনেকের কাছেই অস্পষ্ট। আবার অনেককে শাফাআত প্রার্থনায় অত্যন্ত আন্তরিক দেখা গেলেও যার নিকট প্রার্থনা করা কর্তব্য ও ফরজ তারা তাঁর নিকট শাফাআত প্রার্থনা করছেন না বরং তাঁরা শিরকি প্রার্থনায় লিপ্ত রয়েছেন । এটা ইসলাম আদৌ অনুমোদন করে না। এ শিরক-মিশ্রিত শাফাআত প্রার্থনার মূলোৎপাটন করে সময়ের একটি দ্বীনি ও সামাজিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কলম হাতে নিয়েছি এবং কোরআন-হাদীসের আলোকে তা প্রমাণ করার প্রয়াস পাচ্ছি।
জানি, মানুষ ভুলের ঊর্ধে নয়, মানুষ পরিপূর্ণতা দাবি করতে পারে না। তাই সুধী পাঠকবর্গের কাছে আমার অনুরোধ, শরীয়তের এ গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাটি কোরআন-হাদীসের সাথে মিলিয়ে আপনারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এবং ভুলত্রুটি ধরা পড়লে দয়া করে আমাকে জানালে কৃতার্থ হবো এবং সংশোধনে সচেষ্ট হবো ইনশা আল্লাহ।
বইটি রচনা এ প্রকাশনায় যারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দান করেছেন তাদের সকলের কাছে আমি ঋণী ও কৃতজ্ঞ। যাদের আর্থিক সহযোগিতায় বইটি প্রকাশ করা সম্ভব হলো তাদেরকে অশেষ মুবারকবাদ। আল্লাহ তাদের উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করুন। যাদের উদ্দেশ্যে এ বই রচনা ও প্রকাশ করা হলো তাঁরা উপকৃত হোক এটাই আমার একমাত্র কামনা। জনাব মুহাম্মদ আব্দুল হাকীম তাফাদার সাহেবের সম্পাদনায় পান্ডুলিপিটি তৈরী হয়েছে। তাঁকে অশেষ ধন্যবাদ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শিরক মুক্ত হয়ে তার ইবাদত করা, তাওহীদের পথে চলা এবং কেবল তাঁরই নিকট প্রার্থনা করার তাওফীক দান করুন। আমীন”
سبحان ربك رب العزة عما يصفون وسلام على المرسلين والحمد لله رب العلمين
=============================================
তবে এখানে শেষ নয় - আর বিস্তারিত পাবেন ইনশা আল্লাহ।
সংকলন : মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম
সম্পাদনা : ইকবাল হোছাইন মাছুম
সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
তখন তাঁকে সুপারিশকারী বানিয়ে দেয়া হবে। অতএব বুঝা গেল যে, কিয়ামত দিবসে অনুষ্ঠিত শাফাআত একমাত্র আল্লাহরই অনুমতি সাপেক্ষ। অর্থাৎ যাকে ইচ্ছা সুপারিশের অনুমতি দেয়া ও যাকে ইচ্ছা না দেয়া এবং যার জন্য ইচ্ছা করতে দেয়া আর যার জন্য ইচ্ছা করতে না দেয়া এবং কারো শাফাআত শোনা বা না শোনা আর তা কবুল করা বা না করা সর্বশক্তিমান আল্লাহর একক এখতিয়ারে। তিনি ছাড়া যে-ই হোক না কেন তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ শাফাআত করার সাহস করতে পারবে না। তাই যারা আদালতে আখিরাতে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শাফাআত লাভের উচ্চাকাঙ্খা রাখে তার জন্য উচিত, শাফাআত ও দোয়া কবুলের মালিক মহান আল্লাহর দরবারেই শাফাআত ও অন্যান্য বিষয়ে দু’আ করা। যাতে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমাদের জন্য শাফাআত করার অনুমতি প্রদান করেন। যেমনিভাবে সমস্ত সৃষ্টিকুল তাঁরই নিকট প্রার্থনা করে থাকে।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
আকাশ ও পৃথিবীর সবাই তাঁরই সমীপে প্রার্থনা করে। ( সূরা আর-রাহমান : ২৯)
তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
لِيَسْأَلْ أَحَدُ كُمْ رَبَّهُ حَاجَاتَهِ كُلَّهَا حَتّى يَسْألَ شَسْعَ نَعْلِه اِذَا انْقَطَعَ (رواه الترمذي وابن حبان, صحيح الأذكار /50)
“তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ পালনকর্তা আল্লাহর নিকট যাবতীয় হাজাত ও প্রযোজনের প্রার্থনা করা কর্তব্য; এমন কি নিজের জুতার ফিতাও প্রার্থনা করবে যদি তা ছিড়ে যায়”। (বর্ণনায় তিরমিযী, হাকিম, মিশকাত ও সহীহুল আযকার, পৃ : ৫০)
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, আখেরাতে অনুষ্ঠেয় শাফাআতের প্রর্থনার বিষয়টি আমাদের অনেকের কাছেই অস্পষ্ট। আবার অনেককে শাফাআত প্রার্থনায় অত্যন্ত আন্তরিক দেখা গেলেও যার নিকট প্রার্থনা করা কর্তব্য ও ফরজ তারা তাঁর নিকট শাফাআত প্রার্থনা করছেন না বরং তাঁরা শিরকি প্রার্থনায় লিপ্ত রয়েছেন । এটা ইসলাম আদৌ অনুমোদন করে না। এ শিরক-মিশ্রিত শাফাআত প্রার্থনার মূলোৎপাটন করে সময়ের একটি দ্বীনি ও সামাজিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কলম হাতে নিয়েছি এবং কোরআন-হাদীসের আলোকে তা প্রমাণ করার প্রয়াস পাচ্ছি।
জানি, মানুষ ভুলের ঊর্ধে নয়, মানুষ পরিপূর্ণতা দাবি করতে পারে না। তাই সুধী পাঠকবর্গের কাছে আমার অনুরোধ, শরীয়তের এ গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাটি কোরআন-হাদীসের সাথে মিলিয়ে আপনারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এবং ভুলত্রুটি ধরা পড়লে দয়া করে আমাকে জানালে কৃতার্থ হবো এবং সংশোধনে সচেষ্ট হবো ইনশা আল্লাহ।
বইটি রচনা এ প্রকাশনায় যারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দান করেছেন তাদের সকলের কাছে আমি ঋণী ও কৃতজ্ঞ। যাদের আর্থিক সহযোগিতায় বইটি প্রকাশ করা সম্ভব হলো তাদেরকে অশেষ মুবারকবাদ। আল্লাহ তাদের উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করুন। যাদের উদ্দেশ্যে এ বই রচনা ও প্রকাশ করা হলো তাঁরা উপকৃত হোক এটাই আমার একমাত্র কামনা। জনাব মুহাম্মদ আব্দুল হাকীম তাফাদার সাহেবের সম্পাদনায় পান্ডুলিপিটি তৈরী হয়েছে। তাঁকে অশেষ ধন্যবাদ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শিরক মুক্ত হয়ে তার ইবাদত করা, তাওহীদের পথে চলা এবং কেবল তাঁরই নিকট প্রার্থনা করার তাওফীক দান করুন। আমীন”
سبحان ربك رب العزة عما يصفون وسلام على المرسلين والحمد لله رب العلمين
=============================================
তবে এখানে শেষ নয় - আর বিস্তারিত পাবেন ইনশা আল্লাহ।
সংকলন : মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম
সম্পাদনা : ইকবাল হোছাইন মাছুম
সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

